মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

খেলাধুলা ও বিনোদন

সারা বাংলাদেশের খেলাধুলার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম (সাবেক ঢাকা স্টেডিয়াম) ও এর আশেপাশের এলাকা। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি হলেও ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হকি, হ্যান্ডবলসহ আরো অনেক খেলা ঢাকায় নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এক সময় প্রতি বছর ঢাকা স্টেডিয়ামে আগা খান গোল্ড কাপ-এর মতো আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট সারাদেশের মানুষকে উদ্দীপিত করে রাখতো। অল্প কিছু সময় প্রেসিডেন্টস গোল্ড কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয়েছিলো এশিয়া কাপ, অনুর্ধ্ব ২১ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

বর্তমানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় অন্যান্য খেলাধুলা ম্রীয়মান হয়ে গেছে বলা যায়। স্বাধীনতা পূর্বের ন্যায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম পূণরায় আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়াও শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ( মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়াম) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্টেডিয়ামগুলোতে এখন নিয়মিতভাবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক খেলাসমূহ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২০১১ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ (ইংরেজি: 2011 ICC Cricket World Cup) আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১০ম প্রতিযোগিতা হিসেবে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে  হিসেবে আয়োজিত হয়েছিল। এই বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ প্রথম আয়োজক দেশ হওয়ার সুযোগ পায়। বিশ্বকাপের সব ম্যাচই একদিনের আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের। চৌদ্দটি জাতীয় ক্রিকেট দল এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। এদের মধ্যে দশটি পূর্ণ সদস্য ও চারটি সহকারী সদস্য দল। বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ফেব্রুয়ারি ও ২ এপ্রিল, ২০১১-এর মধ্যে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মীরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম ম্যাচটি খেলা হয়।  টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার দু'দিন আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ২০১৪ সালে আইসিসি টি ২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের খেলাধুলার সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হচ্ছে জাতীয় ক্রীড়া কাউন্সিল। এর সদর দপ্তর হচ্ছে ঢাকায়। এছাড়াও প্রায় ৩০টি ক্রীড়া ফেডারেশন ঢাকার সদরদপ্তর হতেই জেলা ক্রীড়া সমিতিগুলোর মাধ্যমে সারা দেশের খেলাধুলার কার্যক্রম দেখাশোনা ও পরিচালনা করে। এই ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন যার সদরদপ্তরও ঢাকায় অবস্থিত। উল্লেখযোগ্য ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো হলো: বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন; বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড; বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন; বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন; বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশন; বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশন; বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন; বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন; বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন; বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন; বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশন; বাংলাদেশ আর্চারী ফেডারেশন; বাংলাদেশ এ্যামেচার এথলেটিক ফেডারেশন; বাংলাদেশ খো খো ফেডারেশন; বাংলাদেশ তাই্কোয়ান্ডো ফেডারেশন প্রভৃতি।

ঢাকার উল্লেখযোগ্য খেলাধুলার কেন্দ্রগুলো হচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকা সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম, শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ন্যাশনাল সুইমিংপুল, মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম, মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়াম, উডেনফ্লোর জিমনেশিয়াম, ঢাকা জেলা ক্রীড়া সমিতি; মিরপুর জাতীয় ষ্টেডিয়াম ও তা সংলগ্ন সুইমিংপুল কমপ্লেক্স; মিরপুর জাতীয় ইনডোর স্টেডিয়াম; বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম ও নৌবাহিনীর সুইমিং কমপ্লেক্স। এছাড়াও ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাব মাঠ, ধানমন্ডি ক্লাব মাঠ এবং কলাবাগান ক্লাব মাঠেও সারা বছর ধরে বিভিন্ন লীগ ও টুর্নামেন্টের খেলা চলে।

 

পৃথিবীর বিভিন্ন  অঞ্চলের মানুষের মত ঢাকা জেলার মানুষেরাও প্রাচীন কাল থেকে নানান ধরণের খেলাধুলা ও বিনোদনের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। খেলাধুলাগুলো অতি প্রাচীন এবং এগুলি স্থলে-জলে এমনকি আকাশেও বিদ্যমান ছিল। যুগের পরিবর্তনে এই খেলাগুলি বিবর্তিত হয়েছে এবং কিছু কিছু বর্তমান সময়ে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। একসময়ের এক্কাদোক্কা বা বাঘবন্দি, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই, ডাংগুলি, ষোলগুটি খেলা থেকে শুরু করে আজকের অতি জনপ্রিয় ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার আবির্ভাব ঘটেছে। তেমনি নদীতে নৌকাবাইচ, জলকুমির, সাঁতার, আকাশে ঘুড়ি ও পায়রা উড়ানো, বুলবুলির লড়াই। বিনোদনের দৃষ্টান্ত হিসেবে পালাগান, যাত্রা, লোকসংগীত, থিয়েটার, সিনেমা এবং অধুনা টেলিভিশন।

ছবি