মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

যোগাযোগ ব্যবস্থা

ঢাকা একটি নদী বিধৌত জেলা। এই জেলার নদীগুলো যেমন বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ, বংশী প্রভৃতির মাধ্যমে দেশের অপরাপর বৃহৎ নদী যেমন- পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার সাথে সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বত্র গমন করা যায়। বস্তুত এই নদীপথ দিয়েই ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালিত হয়। প্রাচীনকাল থেকেই ঢাকার সাথে বাংলাদেশের অন্যান্য স্থান এমনকি বাংলার বাইরেও স্থলপথে রাস্তার মাধ্যমে যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে ঢাকার সাথে বাংলাদেশের প্রতিটি স্থলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন- ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড, ঢাকা-ময়মানসিংহ রোড, ঢাকা-মাওয়া রোড, ঢাকা-সাভার রোড প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

ঢাকা শহরের মধ্যে যাতায়াত করার জন্য সর্বাপেক্ষা সহজলভ্য যানবাহন হলো বাইসাইকেল ও রিকসা। ঢাকার রিকশা বিখ্যাত। শহরে সর্বমোট রিকশার সংখ্যা আনুমানিক ৩,২০,০০০। এর মধ্যে মাত্র ৭০,০০০ রিক্সা নিবন্ধিত। বাইসাইকেল, রিক্সা ঢাকা শহরের রাস্তার যানজটের অন্যতম কারণ এবং কিছু বড় বড় রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন পরিচালিত বাস ঢাকা শহরের পরিবহনের আরেকটি জনপ্রিয় উপায়। এছাড়া রয়েছে বহু বেসরকারী বাস সার্ভিস। ২০০২ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে ঢাকা শহরে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত কিছু যানবাহন (বেবি ট্যাক্সি, টেম্পো ইত্যাদি) বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক গ্যাস (Compressed Natural Gas - CNG) বা সিএনজিচালিত পরিবেশ বান্ধব সবুজ ট্যাক্সি চালু হয়।

রেলপথে ঢাকা জেলার অভ্যন্তরীন এবং নগর ঢাকার সাথে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

উপরন্তু আকাশ পথে মহানগরী ঢাকার বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকার অদূরে টংগীতে অবস্থিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক র‌্যুটে নিয়মিত বিমান চলাচল করে থাকে।

বস্তুত নদীপথ, স্থলপথ ও রেলপথে ঢাকা জেলা বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর যে ব্যাপক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে তা একদিকে যেমন ঢাকা মহানগরীর তেমনি অন্যদিকে ঢাকা জেলার ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করেছে।

ছবি