মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

আহসান মঞ্জিল

ঢাকার অন্যতম প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন আহসান মঞ্জিল । এক সময় এখানে একটি প্রমোদ ভবন ছিল । এর নির্মাতা ছিলেন মোঘল আমলে ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের জমিদার শেখ এনায়েত উল্লাহ । তার মৃত্যুর পর তার পুত্র মতিউল্লাহ এই ভবন ফরাসী বণিকদের কাছে বিক্রি করে । তারা এটাকে বাণিজ্য কুটির হিসাবে ব্যবহার করত । ১৮৩৫ সালে নবাব আব্দুল গণির পিতা খাজা আলীমুল্লা ফরাসীদের কাছ থেকে এই ভবনটি কিনে নেন । তিনি ভবনের আমূল পরিবর্তন করে পুননির্মাণ করেন এবং নওয়াববাড়ি হিসাবে এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন । পিতার মৃত্যুর পর নওয়াব আব্দুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদের পুননির্মাণ করে বর্তমান আকারে আনেন এবং পুত্র আহসান উল্লাহর নামে প্রাসাদের নাম রাখেন আহসান মঞ্জিল । ১ মিটার উচু  বেদির উপর নির্মিত মুল ভবনের আয়তন  দৈর্ঘ্য ১২৫.৪ এবং প্রস্থে ২৮.৭৫ মি. তৎকালীন ঢাকায় আহসান মঞ্জিল মতো এত সুন্দর  জমকালো ভবন আর ছিল না । এই আহসান মঞ্জিলে প্রথম  ঢাকা শহরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলেছিল ।  আহসান মঞ্জিল দুটি  অংশে  বিভক্ত । পূর্বদিকের  অংশটি দরবার বা রঙমহল  এবং পশ্চিম  দিকের অংশটি  ছিল অন্দর মহল দু, টি অংশে সংযোগ করা হয়েছে দোতলায় । দক্ষিণ পাশে রয়েছে খোলা চত্বর । তারপর বুড়িগঙ্গা  নদী । প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা ভ্রমণ ও বিনোদন প্রিয় শত শত মানুষের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠে এ চত্বর । দোতলা থেকে সিড়ি চলে গেছে নদীর ঘাটে । প্রায় পাঁচ একর জমিসহ ঐতিহাসিক এই  ভবনটি  ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার অধিগ্রহণ করে জাদুঘরে রুপান্তর করেন।  জাদুঘরের মোট ২৩টি গ্যালারীতে  ঢাকার নবাবদের জীবনযাত্রা  ও পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। সর্বশেষ গ্যালারীটি পেরিয়ে দেখা যায় আহসান মঞ্জিলের দ্বিতীয় তলার বারান্দা। এ বারান্দায় বসে নবাব বিকাল বেলা বুড়িগঙ্গার বুকে পাল তুলে বয়ে যাওয়া নৌকার দৃশ্য উপভোগ করতেন। বৈচিত্রময় এই প্রাসাদের আনে উদাস চাহনীতে তাকিয়ে থাকলে মানস পটে ভেসে উঠে অতীত ইতিহাস ও ঢাকার নবাবদের বিলাসী জীবনের ছবি।। প্রতিদিন দেশী বিদেশী প্রচুর দর্শক আহসান মঞ্জিল জাদুঘর দেখেত আসে । দর্শকদের কৌতুল নিবারণের জন্য রয়েছে হাতীর দাঁতসহ মাথার বিরাট কঙ্কাল, কাঠ ও শ্বেত পাথরের গোল টেবিল, প্রাচীন রৌপ্য মুদ্রা, কারুকাজ খচিত কাঠের পার্টিশন, স্ফকটিকের তৈরি টেবিল, নবাবদের ব্যবহৃত তৈজসপত্র, আটটি কচ্ছপের পায়া যুক্ত টেবিল ইত্যাদি। বৃহস্পতিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয়দিন এ জাদুঘর দর্শকদের জন্য খোলা থাকে। প্রবেশ ফি মাত্র ২/- টাকা। ফোন নং ৭৩৯১১২২, ৭৩৯৩৮৬৬।

 

                                                                          তথ্যকোষ: “পর্যটন নগরী ঢাকা”,কাজী জিলহাজ, ন্যাশনাল পাবলিকেশন,ঢাকা, পৃষ্ঠা নং ৩২।