মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

জাতীয় সৃতিসৌধ

ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কি. মি. দূরে সাভার থানার নবীনগরে  জাতীয় স্মৃতিসৌধ অবস্থিত । এ স্থানটি নির্বাচনের অন্যতম কারণ ছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে অনেক গণকবর আবিস্কৃত হয়েছিল । বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধকে চিরস্মণীয় করে রাখার জন্য এ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় । অধিগ্রহণকৃত ৮৪ একর জমির মাঝে প্রায় ৬৪ একর জুড়ে রয়েছে সবুজ ভুমি। ৪০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে স্মৃতিসৌধ । ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে জাতির জনক শেখ মজিবুর রহমান এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন । ১৯৮২ সালের আগষ্ট মাসে সৌধের নির্মাণ কাজ শেষ হয় । জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল কাঠামোর নক্সা তৈরি করেন স্থপতি মইনুল হোসেন । কংক্রিট নির্মিত ৭ টি ত্রিভূজাকৃতির স্তম্ভ দিয়ে মূল সৌধ গঠিত , যা ছোট হতে ধীরে ধীরে উচু হয়ে উপরে উঠে গেছে । এর উচ্চতা ১৫০ ফুট । প্রথম স্তম্ভটির উচ্চতা কম হলে ও প্রস্তে সবচেয়ে বড় । এটিকে আন্দোলনের সূচনা  অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বোঝানো হয়েছে । পরবর্তী স্তম্ভগুলো দ্বারা যথাক্রমে ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৬৬৯ এবং ১৯৭১ কে বুঝানো হয়েছে । সর্বোচ্চ স্তম্ভটির দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে বুঝানো হয়েছে । এই স্মৃতিসৌধ বৈশিষ্ট্য হলো এক এক দিক থেকে এক এক রকম আকৃতির মনে হয় । এটি শুধু স্মৃতিসৌধ নয় । এটি একটি পূনাঙ্গা কমপ্লেক্স । এখানে রয়েছে আকর্ষণীয় প্রশস্ত প্রবেশ পথ , গাড়ি পার্কিং এর সুব্যবস্থা । প্রবেশ পথের দু ,পাশে নানা জাতের ফুলগাছ  পাশেই আছে কৃত্রিম জলাশয় , যেখানে স্মৃতিসৌধ ছবি প্রতিফলিত হয় । আরো রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, সেতু, ফুলের বাগান অভ্যর্থনা কেন্দ্র ও হেলিপ্যাড , মসজিদ রেস্তোরা এবং একটি মনোরম সবুজ – শ্যামল বনানী । এ বনানীতে দেখা যায় নানা জাতের ফলজ , বনজ ও ঔষধি গাছের সমাহার । আধুনিক  স্থাপত্য নক্সার এক অপূর্ব নিদর্শন এ স্মৃতিসৌধ দেখার জন্য সারা বছর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকের  ভিড় লেগে থাকে ।

 

                                                                         তথ্যকোষ: “পর্যটন নগরী ঢাকা”,কাজী জিলহাজ, ন্যাশনাল পাবলিকেশন,ঢাকা, পৃষ্ঠা নং ৩১।