কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ এ ০৩:৩৫ PM

খেলাধুলা ও বিনোদন

কন্টেন্ট: পাতা

ঢাকা জেলার খেলাধুলার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ঢাকার নবাবদের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ঢাকা বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিচে ঢাকার খেলাধুলার ইতিহাস, প্রধান খেলা, ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এবং স্টেডিয়ামের বিবরণ

প্রধান ও জনপ্রিয় খেলাসমূহবাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি হলেও ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হকি, হ্যান্ডবলসহ আরো অনেক খেলা ঢাকায় নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামসমূহ

* শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম (মিরপুর): 'হোম অব ক্রিকেট' নামে পরিচিত। বাংলাদেশের ক্রিকেটের মূল ভেন্যু।

* জাতীয় স্টেডিয়াম (পল্টন): বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম। বর্তমানে এটি মূলত ফুটবল ও অ্যাথলেটিকসের জন্য ব্যবহৃত হয়।

* মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম: দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়াম।

ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় খেলাধুলা

* নৌকা বাইচ: ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যা গ্রামীণ ঢাকার এক বড় আকর্ষণ।

* ঘুড়ি ওড়ানো (সাকরাইন উৎসব): পুরান ঢাকায় পৌষ সংক্রান্তিতে (সাকরাইন) বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ঘুড়ি ওড়ানো এবং কাটাকাটি খেলার এক বিশাল ঐতিহ্য রয়েছে।

* কুস্তি ও লাঠিখেলা: মোঘল ও নবাবী আমল থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন মহল্লায় কুস্তি (পহলবানদের লড়াই) এবং উৎসব-পার্বণে লাঠি খেলার প্রচলন ছিল।

ঢাকার প্রখ্যাত ক্রীড়াবিদ

* ক্রিকেট: মোহাম্মদ আশরাফুল (টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান), শাহরিয়ার নাফীস, রকিবুল হাসান।

* ফুটবল: কাজী সালাউদ্দিন (কিংবদন্তি ফুটবলার ও সাবেক বাফুফে সভাপতি), আমিনুল হক (সাবেক গোলরক্ষক)।

* দাবা: নিয়াজ মোর্শেদ (উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার)।

ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান (ঐতিহ্যবাহী বিনোদন)
  • লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিল: পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা তীরের এই দুটি স্থান ইতিহাসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিকেলের বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

  • জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা: চন্দ্রিমা উদ্যান এবং সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া এভিনিউতে প্রতিদিন বিকেলে ও ছুটির দিনে হাজার হাজার মানুষ আড্ডা দিতে এবং মুক্ত বাতাসে সময় কাটাতে আসেন।
আধুনিক নাগরিক বিনোদন ও আড্ডার জায়গা
  • হাতিরঝিল: আধুনিক ঢাকার অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। এর উন্মুক্ত বাতাস, চমৎকার সেতু, ওয়াটার ট্যাক্সি রাইড এবং রাতের আলোকসজ্জা মানুষকে দারুণ আনন্দ দেয়।

  • রবীন্দ্র সরোবর ও ধানমন্ডি লেক: ধানমন্ডির এই লেক পাড় এবং রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত মঞ্চ ঢাকাবাসীর আড্ডা, গান এবং বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোর সাংস্কৃতিক বিনোদনের প্রিয় জায়গা।

  • দিয়াবাড়ী (উত্তরা): কাশবনের সৌন্দর্য এবং মেট্রোরেলের চমৎকার দৃশ্য দেখার জন্য উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকাটি বর্তমানের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন স্পট।
থিম পার্ক ও অ্যামিউজমেন্ট পার্ক
  • ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্ক: সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় অবস্থিত এই পার্কগুলো বিভিন্ন রোমাঞ্চকর রাইড এবং ওয়াটার পার্কের জন্য বিখ্যাত।

  • শ্যামলী শিশু মেলা ও ডিএনসিসি ওন্ডারল্যান্ড (গুলশান): ঢাকার শহরের ভেতরে ছোটদের রাইড ও বিনোদনের জন্য এগুলো বেশ জনপ্রিয়।

  • জাতীয় চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন (মিরপুর): প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মিরপুরের এই বিশাল সবুজ চত্বর অন্যতম।
আধুনিক শপিং মল ও সিনেমা হল (মাল্টিপ্লেক্স)
  • যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটি: এই বিশাল শপিং মলগুলোতে শুধু কেনাকাটাই নয়, রয়েছে বিশাল ইনডোর গেম জোন, ফুড কোর্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা হল।

  • স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাস: ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা এই মাল্টিপ্লেক্সগুলো চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আধুনিক বিনোদনের মূল কেন্দ্র।
থিয়েটার, মঞ্চনাটক ও জাদুঘর
  • বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বেইলি রোড: নাটক এবং মঞ্চপাড়ার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত বেইলি রোড ও শিল্পকলা একাডেমিতে প্রায় নিয়মিতই নাটক, চিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

  • বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর (শাহবাগ) ও বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর: জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি পারিবারিক বিনোদনের জন্য এগুলো চমৎকার স্থান।
উৎসব ও মৌসুমী বিনোদন
  • পহেলা বৈশাখ ও রমনা বটমূল: বাংলা নববর্ষের এই উৎসব পুরো ঢাকাকে রঙিন করে তোলে।

  • অমর একুশে বইমেলা: পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলা ঢাকাবাসীর জন্য এক অনন্য সাংস্কৃতিক উৎসব।

  • সাকরাইন উৎসব: পুরান ঢাকার পৌষ সংক্রান্তির এই ঘুড়ি ওড়ানো এবং ফায়ারওয়ার্কস উৎসব দেখার মতো এক বিনোদন।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন