কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:১৫ PM

প্রখ্যাত ব্যাক্তিবর্গ

কন্টেন্ট: পাতা

ক্রম

নাম

বিবরণ

ছবি

০১

নবাব আবদুল গনি

(১৮১৩–১৮৯৬)

ঢাকার প্রখ্যাত জমিদার, ব্যবসায়ী ও দানবীর। ঢাকার নবাব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি ঢাকায় প্রথম পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও গ্যাসলাইট চালু করতে অর্থায়ন করেন, মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন এবং ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত হন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগর উন্নয়নে তাঁর দানশীলতা ঢাকার আধুনিকায়নের ভিত্তি রচনা করে।

০২

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ

(১৮৭১–১৯১৫)

ঢাকার চতুর্থ ও সর্বাধিক প্রভাবশালী নবাব, খাজা আহসানউল্লাহর পুত্র। তিনি ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম ছিলেন। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর ভূমি দান ও প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) সমর্থক হিসেবে পূর্ব বাংলার শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

০৩

কায়কোবাদ

(১৮৫৭ - ১৯৫১)

প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। বাংলা সাহিত্যের প্রথম উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর সর্বাধিক আলোচিত রচনা ‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্য, যেখানে পলাশীর যুদ্ধের পটভূমিতে জাতীয়তাবোধ ও ঐতিহাসিক চেতনা ফুটে ওঠে। এছাড়া ‘বিরহ বিলাপ’ ও ‘অশ্রুমালা’ তাঁর অন্যতম কাব্যগ্রন্থ। আধুনিক বাংলা কাব্যধারায় মুসলিম কবিদের অগ্রযাত্রায় তিনি পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত।

০৪

জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক

(১৯১২-১৯৯৯)

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ, যিনি প্রথাগত গ্রন্থ রচনার চেয়ে মৌখিক আলোচনা ও ছাত্র গড়ে তোলার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চাকে প্রভাবিত করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন এবং কয়েক প্রজন্মের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ একাডেমিক সম্মাননা ‘জাতীয় অধ্যাপক’ উপাধিতে ভূষিত করে।

০৫

শামসুর রাহমান

(১৯২৯ - ২০০৬)

বিশ শতকের অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি ও দীর্ঘদিন দৈনিক পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিক। তাঁর ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘আসাদের শার্ট’-এর মতো কবিতা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীকী প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে। ‘নিরালোকে দিব্যরথ’, ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’সহ ৬০টিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। তাঁকে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধুনিক কবি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।

০৬

আজম খান

(১৯৫০ - ২০১১)

বাংলাদেশের পপ ও রক সংগীতের অগ্রপথিক, যিনি ‘গুরু’ নামে সর্বাধিক পরিচিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসারির একজন গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ড গঠন করে বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের গোড়াপত্তন করেন। ‘আলাল ও দুলাল’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’-র মতো গান আজও জনপ্রিয়, এবং তাঁকে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।

০৭

কাজী সালাউদ্দিন

(১৯৫৩ - )

ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলার। ১৯৭০-৮০ দশকে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলে জাতীয় পর্যায়ে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন এবং হংকংয়ের পেশাদার লিগে খেলা প্রথম বাঙালি ফুটবলার হিসেবে পরিচিত। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের ফুটবল সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

০৮

নিয়াজ মোরশেদ

(১৯৬৬ -)

বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার, যিনি ১৯৮৭ সালে এই খেতাব অর্জন করেন। মাত্র নয় বছর বয়সে দাবা খেলা শুরু করে অল্প বয়সেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য দেখান। বহুবার জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দাবার মানচিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অগ্রগণ্য।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন