কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৫৩ PM
কন্টেন্ট: পাতা
উপজেলার নাম | সংক্ষিপ্ত পরিচিতি | ওয়েবসাইটের লিংক |
সাভার | সাভার ঢাকা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল উপজেলা, যার আয়তন প্রায় ২৮০.১১ বর্গ কিলোমিটার। এটি ঢাকা শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এবং বৃহত্তর ঢাকা মেগাসিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তরে কালিয়াকৈর ও গাজীপুর সদর, দক্ষিণে কেরানীগঞ্জ, পূর্বে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা এবং পশ্চিমে ধামরাই ও সিংগাইর উপজেলা দ্বারা এর সীমানা নির্ধারিত। সাভার দেশের বৃহত্তম শিল্প এলাকাগুলোর একটি, যেখানে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস), চামড়া ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের ব্যাপক বিস্তৃতি রয়েছে। এখানে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্থাপত্যকীর্তি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপি এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) সাভারে অবস্থিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান।
| |
ধামরাই | আয়তনের দিক থেকে ধামরাই ঢাকা জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা, যার মোট আয়তন প্রায় ৩০৭.৪১ বর্গ কিলোমিটার। উত্তরে মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর, দক্ষিণে সিংগাইর ও মানিকগঞ্জ সদর, পূর্বে সাভার এবং পশ্চিমে সাটুরিয়া ও নাগরপুর উপজেলা দ্বারা এটি পরিবেষ্টিত। ধামরাইয়ের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক পটভূমি — মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চল মসলিন ও কাঁসা-পিতল শিল্পের জন্য সুপরিচিত ছিল, এবং আজও ধামরাইয়ের কাঁসা শিল্প দেশে-বিদেশে সমাদৃত। এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহ্য হলো প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো জগন্নাথদেবের রথযাত্রা, যা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত এবং প্রতি বছর আষাঢ় মাসে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটায়। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পূর্ব পাকিস্তানের শেষ মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের জন্মস্থান এই উপজেলার বালিয়া গ্রাম। কৃষি, মৃৎশিল্প, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র কলকারখানা ধামরাইয়ের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।
| |
কেরানীগঞ্জ | কেরানীগঞ্জ উপজেলার আয়তন প্রায় ১৬৬.৮৭ বর্গ কিলোমিটার এবং এটি ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত। উত্তরে সাভার ও সিংগাইর, দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ, পূর্বে ঢাকা মহানগরীর একাধিক এলাকা এবং পশ্চিমে নবাবগঞ্জ ও সিরাজদিখান উপজেলা এর সীমানা গঠন করেছে। ঐতিহাসিকভাবে ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিবারের সদস্যদের কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায় বন্দি রাখা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা শহরে পরিচালিত অধিকাংশ গেরিলা অভিযানের পরিকল্পনা ও পরিচালনার কেন্দ্র ছিল এই অঞ্চল, যার জন্য স্থানীয় জনগণকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল। বর্তমানে কেরানীগঞ্জ ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষত তৈরি পোশাকের পাইকারি বাজার ও মাঝারি শিল্প-কারখানার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, পাশাপাশি আবাসন শিল্পেরও দ্রুত বিকাশ ঘটছে। ২০১৬ সালে পুরান ঢাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এখন কেরানীগঞ্জে অবস্থিত, যা দেশের বৃহত্তম কারাগারগুলোর একটি।
| |
নবাবগঞ্জ | ঢাকা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নবাবগঞ্জ উপজেলার আয়তন প্রায় ২৪৪.৮০ বর্গ কিলোমিটার। উত্তরে সিংগাইর, দক্ষিণে দোহার, পূর্বে কেরানীগঞ্জ ও সিরাজদিখান এবং পশ্চিমে হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা দ্বারা এর সীমানা নির্ধারিত। ইছামতি, কালিগঙ্গা ও পদ্মা — এই তিনটি নদী এই উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যা একে একটি নদীবিধৌত সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত করেছে। বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রধান মুসলিম কবি কায়কোবাদের জন্মস্থান এই উপজেলার আগলা ইউনিয়নে। কলাকোপা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘জজ বাড়ি’ জমিদার আমলের একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন, যা বাগান, শান বাঁধানো পুকুর ও হরিণ খামার দিয়ে ঘেরা। এখানে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বহু পুরনো ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে, যা এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সাক্ষ্য বহন করে। কৃষি ছাড়াও পাট, তাঁতের শাড়ি ও লুঙ্গি নবাবগঞ্জের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
| |
দোহার | ঢাকা জেলার দক্ষিণতম উপজেলা দোহারের আয়তন প্রায় ১৬১.৪৯ বর্গ কিলোমিটার এবং এটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উত্তরে নবাবগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলা, পূর্বে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলা এবং পশ্চিমে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা ও পদ্মা নদী দ্বারা এর সীমানা গঠিত। পদ্মা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় দোহার মূলত কৃষিনির্ভর একটি জনপদ, যেখানে ধান, পাট ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ব্যাপক উৎপাদন হয়। এলাকার জনসংখ্যার একটি বড় অংশের আয়ের উৎস কৃষি এবং প্রবাসী আয়/রেমিট্যান্স, বিশেষত প্রবাসে কর্মরত ব্যক্তিদের পাঠানো অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পদ্মার নিয়মিত ভাঙন এই অঞ্চলের একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা নদীতীরবর্তী বসতি ও কৃষিজমিকে প্রভাবিত করে। অপেক্ষাকৃত শান্ত ও প্রকৃতিনির্ভর এই উপজেলা ঢাকা জেলার গ্রামীণ বৈশিষ্ট্যের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব করে।
| |
উপজেলার মানচিত্র
| ||