কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ এ ১২:৪১ PM
কন্টেন্ট: পাতা
ঐতিহাসিকের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন; তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশস্বরূপ শহরে 'ঢাক' বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্তির রূপ নেয় এবং তা থেকেই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, মোঘল সাম্রাজ্যের বেশ কিছু সময় ঢাকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর নামে পরিচিত ছিলো।
ঢাকা নগরীকে বর্তমানে বর্তমানে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়েছে - ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর। ঢাকা দক্ষিণই মূলতঃ মূল নগরী। ঢাকা উত্তর ঢাকার নবীন বর্ধিত উপশহরগুলো নিয়ে গঠিত।
| ১. | লালবাগ কেল্লা ও পরী বিবির মাজার | ঢাকা শহরকে একসময় "মসজিদের শহর" বলা হতো। মোগল ও ব্রিটিশ আমলের বহু চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য আজও ঢাকার বুকে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে: ১৬৭৮ সালে মোগল সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন। কেল্লার ভেতরে থাকা পরী বিবির মাজারটির স্থাপত্যশৈলী মোগল যুগের এক অপূর্ব নিদর্শন। | ![]() |
| ২. | আহসান মঞ্জিল | বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই "গোলাপী প্রাসাদ" বা পিঙ্ক প্যালেস একসময় ঢাকার নবাবদের বাসস্থান এবং পূর্ব বাংলার রাজনীতির মূল কেন্দ্র ছিল। | ![]() |
| ৩. | তারা মসজিদ | প্রাচীন ঢাকার চিনিটিকরি (চিনামাটির টুকরো দিয়ে তৈরি মোজাইক) কারুকাজে ঘেরা তারা মসজিদ। | ![]() |
| ৪. | ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির | প্রায় ১২০০ বছরের পুরনো এই হিন্দু মন্দিরটির নাম থেকেই কালক্রমে এই অঞ্চলের নাম "ঢাকা" হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। | ![]() |
| ৫. | কার্জন হল | ব্রিটিশ ও মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য মিশ্রণে তৈরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভবনটি যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি এটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সাথেও জড়িত। | ![]() |
ঢাকার সংস্কৃতিতে যেমন মিশে আছে আদি ঢাকাইয়াদের উৎসবের আমেজ, তেমনি জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কিংবা পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় চেতনা।
পোশাকের ঐতিহ্য (জামদানি ও মসলিন): ঢাকার রূপগঞ্জের (প্রাচীন সোনারগাঁও অঞ্চল সংলগ্ন) জামদানি শাড়ি ইউনেস্কো কর্তৃক অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এর আগে ঢাকার বিশ্ববিখ্যাত মসলিন কাপড়ের সুনাম ছিল বিশ্বজুড়ে।
শাঁখারী ও কাঁসা-পিতল শিল্প: পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারের শাঁখা তৈরি এবং ঢাকার ধামরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁসা-পিতলের মৃৎশিল্প এ অঞ্চলের শত বছরের পুরনো পেশাগত ঐতিহ্য।
ঢাকার নিজস্ব উৎসব: পুরান ঢাকার পৌষ সংক্রান্তির সাকরাইন উৎসব (ঘুড়ি ওড়ানো ও ফায়ার স্পিনিং) এবং রমজানের চকবাজারের ইফতারের ঐতিহ্য সারা দেশে বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে কেন্দ্র করে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ঢাকার অন্যতম বড় উৎসব।
৭. খাবারের ঐতিহ্য (ঢাকাইয়া ডাইনিং)
ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে কথা বললে এখানকার রসনা বিলাসের কথা বাদ দেওয়া অসম্ভব। বিশেষ করে পুরান ঢাকার খাবারের স্বাদ ও সুনাম বিশ্বজুড়ে সমাদৃত:
খাবারের নাম | বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য |
|---|---|
| কাচ্চি বিরিয়ানি ও তেহারি | খাসির মাংস, বাসমতি চাল আর খাঁটি ঘিয়ের সুবাসে তৈরি পুরান ঢাকার কাচ্চি এ অঞ্চলের সিগনেচার ডিশ। |
| বাকরখানি | ময়দা, ঘি ও ডালডা দিয়ে তৈরি মচমচে এই রুটিটি ঢাকাইয়াদের সকালের চায়ের অন্যতম প্রধান সঙ্গী। |
| বোরহানি ও লাচ্ছি | টক দই, পুদিনা পাতা ও মসলা দিয়ে তৈরি বোরহানি ঢাকার যেকোনো ভারী ভোজের অপরিহার্য পানীয়। |
| চকবাজারের ইফতার | "বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়" সহ নানা পদের কাবাব ও শাহী জিলাপি ঢাকার ইফতারের প্রধান ঐতিহ্য। |
একটি ঐতিহাসিক তথ্য: ১৬১০ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে সুবাদার ইসলাম খান যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন, তখন আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে শহরে জোরে জোরে "ঢাক" (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজানো হয়েছিল। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, এই 'ঢাক' বাজানোর ঘটনা থেকেই কালক্রমে এই শহরের নাম হয়েছে ঢাকা।